
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন এক আলোচনা তুঙ্গে—আগামী নির্বাচনে কারা ক্ষমতায় আসছে? এতদিন যেখানে বিএনপির বিজয় প্রায় নিশ্চিত মনে করা হচ্ছিল, সেখানে হঠাৎ করেই জামায়াত নেতাদের কথায় এক ধরনের আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন কি কেবল কথার কথা, নাকি এর পেছনে আছে কোনো গভীর রাজনৈতিক কৌশল? জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ সেই প্রশ্নই তুলে ধরেছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাসুদ কামাল জানান, সম্প্রতি ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়মের পর মানুষের মধ্যে একটি নতুন ধারণা জন্ম নিচ্ছে। এতদিন ধরে বিনয়ী আচরণ করা জামায়াত হঠাৎ করেই যেন নিজেদের ক্ষমতার কাছাকাছি দেখতে পাচ্ছে। তাদের কথাবার্তায় ফুটে উঠছে এক ধরনের গর্ব এবং ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে এক নিশ্চিত আভাস।
গত শুক্রবারে চট্টগ্রামে জামায়াতের এক সমাবেশে দলটির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মাদ শাহজাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রসমাজ থেকে বার্তা এসেছে যে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের যুগ থেকে গণতন্ত্রের যুগে প্রবেশ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে এবং বিএনপিকে বিরোধী দলে যেতে হবে! এই ধরনের মন্তব্য এর আগে কখনো শোনা যায়নি।
এই মন্তব্যের পর বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, "যদি নির্বাচনে বিজয়ী হবেন, তাহলে নির্বাচনে আসছেন না কেন? কেন আপনারা গড়িমসি করছেন?" এই কথার জবাবে জামায়াত কী বলে, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা অপেক্ষা করছেন। তবে, এটি যে কোনো বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় পরের দিন জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনের প্রভাব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পড়বে। জামায়াতের এই নতুন কৌশলের পেছনে কোনো আইনি বা দার্শনিক ভিত্তি আছে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। তবে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। (সূত্র: মাসুদ কামালের ইউটিউব চ্যানেল)