"পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া ডিসি কোর্ট কালেক্টরেট চত্বরে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৫। জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে গত ৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতি বছর এমন মেলা আর স্লোগান কি আমাদের প্রকৃতিকে বাঁচাতে যথেষ্ট? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কিছু চিন্তাভাবনা?
গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান: কতটুকু কার্যকর এই উদ্যোগ?
কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—সবাইকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং একটি সবুজ পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়। গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা, তাদের পরিচর্যা করা এবং বড় করে তোলাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে অনেক বৃক্ষরোপণ অভিযান হয়েছে, কিন্তু সেই গাছগুলোর ভবিষ্যৎ কী হয়েছে, সেই প্রশ্ন কি আমরা কখনো করেছি? এই মেলা কি কেবল কিছু চারা বিক্রি করেই শেষ হবে, নাকি কুষ্টিয়ার সবুজায়নে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকবে?
গণসচেতনতা না দায়সারা গোছের কর্মসূচি?
জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু এই ধরনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনসচেতনতা তৈরি করা। মানুষকে বোঝানো যে, গাছ কেন জরুরি, কেন তাদের নিজেদের উদ্যোগে গাছ লাগাতে হবে, এবং কীভাবে তা পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই মেলায় কি শুধু চারা বিক্রি হচ্ছে, নাকি গাছের পরিচর্যার বিষয়েও মানুষকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে?
শিক্ষার্থীরা কি এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, নাকি এটি কেবল বড়দের একটি আয়োজন?
এই অভিযানের মাধ্যমে কি কুষ্টিয়ায় নতুন বনভূমি তৈরি হবে, নাকি শুধু ব্যক্তিগত আঙিনাতেই গাছ সীমাবদ্ধ থাকবে?
একটি গাছ একটি জীবনের সমান, এই কথাটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই মেলা কি সত্যিই সেই জীবনের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে পারবে?