ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মধ্যরাতে পুড়ছে স্বপ্ন, ছাই অর্ধশত দোকান!

  • প্রকাশের তারিখ : 4-সেপ্টেম্বর-2025 ইং
গাজীপুরে মধ্যরাতে পুড়ছে স্বপ্ন, ছাই অর্ধশত দোকান! ছবির ক্যাপশন: গাজীপুরে মধ্যরাতে পুড়ছে স্বপ্ন, ছাই অর্ধশত দোকান!

গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার কাঁচাবাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০টি দোকান ও মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভোরে যখন সবাই গভীর ঘুমে, তখন আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় শত শত মানুষের রুটি-রুজির উৎস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে হঠাৎ করেই মুদিখানা মার্কেটের কাঁচাবাজারে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক ধারণা, এতে শতাধিক দোকান পুড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদি-মনোহারি দোকান—সবকিছুই আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়।

আগুনে সর্বস্ব হারানো এক ব্যবসায়ী, কিতাব আলী, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “রাতে দোকান বন্ধ করার সময় ৫০ হাজার টাকা খুচরা রেখে গিয়েছিলাম। সকালে খবর পেয়ে দোকানে ছুটে যাই, কিন্তু চোখের সামনেই সব পুড়ে যেতে দেখি। কোনো কিছুই বের করতে পারিনি।” তার কথায় স্পষ্ট, শুধু মালামাল নয়, পুড়েছে বহু মানুষের জীবনের সঞ্চয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এই আকস্মিক ক্ষতি মানুষের মনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা আর্থিক ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি বেদনাদায়ক।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশনের পেছনের কাঁচাবাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে পানির স্বল্পতা ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। পরে পাশের পুকুর ও শাপলা ম্যানশন থেকে পানি সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করে। তাদের প্রচেষ্টায় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলার (ডাম্পিং) কাজ চলছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

মামুন আরও বলেন, “ভাগ্যক্রমে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।” যদিও আইন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠিত হবে, তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কেন বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি আরও উন্নত প্রযুক্তি বা অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা জরুরি নয়?

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে কিছুটা সময় নেয়। এমন দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়াদান নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার (যেমন, ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম) আরও সহজলভ্য করা উচিত।

(সূত্র: গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ী)

ad728
কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
বেঙ্গল প্রেস ডেস্ক

বেঙ্গল প্রেস ডেস্ক