দেশের জনপ্রিয় গণমাধ্যমের লোগো ও নাম নকল করে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ফেসবুক পেজ। এসব পেজে ‘সারকাজম’ বা বিদ্রূপের আড়ালে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিমূলক ও ভুয়া রাজনৈতিক কনটেন্ট। এসব নকল পেজের মধ্যে ‘আনোয়ার টিভি’, ‘দ্য দিল্লি স্টার’, এবং ‘মনিরজমিন’ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এই ‘তথ্য সন্ত্রাস’ কি কেবল মজা করার উদ্দেশ্যে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য?
‘আনোয়ার টিভি’ ও ‘দ্য দিল্লি স্টার’: বিভ্রান্তির নতুন মাত্রা
মাত্র তিন মাস আগে চালু হওয়া ‘আনোয়ার টিভি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ এরই মধ্যে ২ লাখ ৩৮ হাজার ফলোয়ার সংগ্রহ করেছে। এই পেজটি যমুনা টিভির লোগো নকল করে তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের পোস্টগুলো ব্যাপক হারে শেয়ার হচ্ছে। যদিও পেজে লেখা আছে যে এটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি, সাধারণ মানুষ প্রায়শই এটি বুঝতে পারছে না।
একইভাবে, ইংরেজি দৈনিক The Daily Star-কে নকল করে তৈরি হয়েছে ‘The Delhi Star’। এই পেজটির একটি ভিডিও ক্লিপে সাদা পোশাকধারী কিছু লোককে 'র' বা 'আইএসআই' এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা ১১ লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছে। অনেকেই এই ভুয়া খবরকে সত্য মনে করে মূল গণমাধ্যমকে গালাগালি করতেও পিছপা হননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের সমাধান কোথায়?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ আসল ও নকল পেজ আলাদা করতে না পারার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এই ভুয়া খবরের কারণে প্রকৃত গণমাধ্যমের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সচেতনতা বৃদ্ধি: মানুষের মধ্যে ‘মিডিয়া লিটারেসি’ বাড়াতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই তথ্য যাচাই করতে শেখে।
ভেরিফায়েড পেজ অনুসরণ: ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উচিত, যে কোনো সংবাদে বিশ্বাস করার আগে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড (নীল চিহ্নযুক্ত) পেজটি অনুসরণ করা।
রিপোর্ট করা: কোনো ভুয়া বা নকল পেজ চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা রিপোর্ট করতে হবে।
প্রশ্ন হলো, যখন একটি গণমাধ্যমের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তখন কি কেবল মানুষের সচেতনতা যথেষ্ট? ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কি এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো পেজ বন্ধ করতে আরও কঠোর হবে না?
নিজস্ব প্রতিবেদন